মোঃ শরীফ উদ্দিনঃ কুমিল্লার বরুড়ায় সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ তাজুল ইসলাম এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ ৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার দুপুর ২টায় কুমিল্লার বরুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ তাজুল ইসলাম এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। সিনিয়র সাংবাদিক মরহুম তাজুল ইসলাম গত ৬ জানুয়ারী ঢাকা মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা সহ বরুড়ার সাংবাদিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেন। সোমবার দুপুর ২টায় সরাফতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এসময় স্মৃতিচারন করেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ জাহিদ হাসান, বরুড়া প্রেসক্লাবে সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেম, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ ইলিয়াস আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক মোঃ কামরুজ্জামান জনি, বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাংবাদিক মোঃ মাসুদ মজুমদার, বরুড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ ইকরামুল হক, দৈনিক বরুড়া কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম। এছাড়াও এসময় বক্তব্য রাখেন ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট আবদুল মান্নান, ডাঃ আবদুল মতিন, সহ অন্যান্যরা। জানা যায়, সাংবাদিক মোঃ তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিস সহ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই নির্ভীক সংবাদকর্মী। বরুড়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের সরাফতি গ্রামে জন্ম নেওয়া মোঃ তাজুল ইসলাম ছিলেন সাংবাদিকতার মাঠে এক পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য নাম। দৈনিক ভোরের ডাক, রূপসী বাংলা, বাংলার আলোড়ন, নিরীক্ষণ, দৈনিক শ্রমিক, দৈনিক মুক্তির লড়াই ও দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক বরুড়া কন্ঠ সহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে উপজেলা ও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তথ্য অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে তার লেখালেখি ও ভূমিকা পাঠকমহলে আলাদা সম্মান কুড়িয়েছে। সাংবাদিকতা ছিল তার কাছে কেবল পেশা নয়, ছিল দায়িত্ব ও সংগ্রাম। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই সাংবাদিক আপোষহীনভাবে কাজ করে গেছেন। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার আন্দোলনে তার অবদান স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রশংসিত।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, এক কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার অকাল প্রয়াণে পরিবার যেমন অভিভাবকহীন, তেমনি বরুড়ার সাংবাদিক অঙ্গন হারাল এক অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শককে। তার ইন্তেকালে বরুড়া প্রেসক্লাব সহ সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মঙ্গলবার বাদ জোহর সরাফতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। Share this news as a Photo Card Download Photo Card Generating high-quality image, please wait... Post navigation বরুড়ায় জুয়া খেলার অপরাধে ৭ জনকে কারাগারে প্রেরন বরুড়ায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা