স্টাফ রির্পোটার: বরুড়ায় বন কর্মকর্তার যোগসাজশে রামমোহন হরিপুর সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছ, ২৮ বছর আগে এল জি আর ডি বিভাগের সৃজন করা ২০০ থেকে ৩০০টি গাছ স্থানীয় অসাধু কিছু ব্যক্তি ও বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২৮ বছর গাছের সংরক্ষণকারী স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কাউছারির নেছা অভিযোগ করে করেন, ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে বরুড়ার উত্তর খোশবাস ইউনিয়নের রামমোহন বাজার থেকে হরিপুর বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা হয়। এতে বেল, শিশু, রেন্ট্রি ও আকাশমনি গাছ রোপণ করা হয়।

২৫-৩০ বছর আগে রোপণ করা গাছ এখন প্রায় ২০-৩০ হাজার টাকা প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য হয়েছে। ২০২২ সালে রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে রাস্তার গাছ গুলো সাবেক এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এর নেতৃত্বে এল জি আর ডি থেকে সামাজিক বন বিভাগ গাছের টেন্ডার করেন। সাবেক এমপির দলীয় নেতাকে নামে মাত্র টাকায় টেন্ডার দিয়ে বড় বড় প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার গাছ কেটে নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, আমার নেতৃত্বে ১০ জন মহিলা এই গাছ গুলো সংরক্ষণ করেন। আমাদের কে সরকারি বন্টন অনুযায়ী মোট টাকার ৬০% দেওয়ার কথা বলে উপজেলা বনকর্মকর্তা সকল কাগজপত্র নিয়ে যান। ৬০ লাখ টাকা টেন্ডার পাওয়া গাছ থেকে আমাদের প্রতিজন কে ৮৭ হাজার টাকা করে অনেক গড়িমসি করে দেওয়া হয়।

২০২২ সালের যিনি টেন্ডার পেয়ে বেশির ভাগ গাছ কেটে নিয়ে গেছেন তিনি হলেন ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগের সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন, জসীম উদ্দিনের গাছের টেন্ডারের মেয়াদ শেষ জসীম বর্তমানে সরকার পতনের পর পলাতক হয়ে বিদেশে আছেন। বর্তমানে বনকর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি যোগসাজশে বাকি গাছ গুলো কাটা হচ্ছে। ইউএনও’র কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি বলেও কাউছারির নেছা জানান।

এ ব্যাপারে সামাজিক বনায়নের বরুড়া উপজেলার বনকর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ফোনে বলেন, বর্তমানে কোন রি-টেন্ডার হয়নি পূর্বে যিনি টেন্ডার পেয়েছিলেন তার কাছে লিখিত কাগজ অনুযায়ী মামুন নামের এক ব্যক্তি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ কুমিল্লা বনবিভাগের কর্মকর্তা মিলে আমরা বাকি গাছ গুলো কাটার অনুমতি দেই।

উপজেলার নির্বাহী অফিসার নু এমং মারমা মং বলেন, এইটা বনবিভাগের কাজ আমি এই বিষয়ে অবগত না, তবে বনকর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যিনি পূর্বে টেন্ডার পেয়েছিলেন তার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে বনকর্মকর্তার নির্দেশে গাছ কাটা হচ্ছে। এ কারণে তাকে বাধা দিতে পারিনি।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রামমোহন হরিপুর সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ

20 March 2025
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
ajker barura
www.ajkerbarura.com