স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ছোটভাতুয়া এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দেলোয়ার হোসেন (বলু) নামে এক ব্যক্তিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বাসেদ মিয়া (৫০) ও তাঁর ছেলে মাসুদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাসেদ মিয়া দাবি করেছেন, দেলোয়ারই প্রথমে তাঁর ওপর কোদাল নিয়ে হামলা করতে আসেন এবং কোদাল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে দেলোয়ারের মাথায় আঘাত লাগে। আহত দেলোয়ার হোসেন ছোটভাতুয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি একসময় মুদিদোকানের ব্যবসা করতেন। তাঁর দাবি, দোকানে কেনাকাটার সূত্রে বাসেদ মিয়ার কাছে মালামাল বাবদ ৩ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া বাসেদ মিয়া অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য তাঁর কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিনেও ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেলোয়ার জানান, জীবিকার তাগিদে তিনি প্রবাসে চলে যান। প্রায় তিন বছর আগে দেশে ফিরে এলেও আর বিদেশে যেতে পারেননি। এরপর থেকে পাওনা টাকা ফেরত পেতে বাসেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। দেলোয়ারের অভিযোগ, গতকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাজারে বাসেদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় বাসেদ তাঁকে কটাক্ষ করে কথা বললে তিনি পাওনা টাকা প্রসঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা তাঁদের সরিয়ে দেন। দেলোয়ারের দাবি, পরে বাড়ি ফেরার পথে বাসেদ মিয়া ও তাঁর ছেলে মাসুদ তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁর ডান হাত ভেঙে যায় এবং কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয় এবং ডান হাতের চিকিৎসা করা হয়। আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার কাছে বাসেদ মিয়া চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। দোকানের মালামালের টাকাও বাকি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে টাকা চাওয়ার পরও সে টাকা দেয়নি। ঘটনার দিন কথা কাটাকাটির পর বাড়ি ফেরার পথে বাসেদ ও তাঁর ছেলে আমার ওপর হামলা করে। কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করায় আমি গুরুতর আহত হই। চিকিৎসা শেষে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।” অন্যদিকে অভিযুক্ত বাসেদ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ভাইয়ের বাড়ির পাশে দেলোয়ারের বোন বাড়ি বানিয়েছে। ওই বিষয়ে আমি তাকে মজা করে বলেছি, ‘তাইলে তোরা সবাই একজোট হয়েছিস।’ এ কথা বলার পর সে প্রথমে আমার ওপর হামলা চালায় এবং কোদাল দিয়ে আঘাত করতে আসে। আমি কোদালটি ছিনিয়ে নিতে গেলে তার কোদালের আঘাত লেগে তার মাথা কেটে যায়।” পাওনা টাকার বিষয়ে বাসেদ মিয়া বলেন, “দেলোয়ারের দোকানের বাকি টাকা দোকান ছাড়ার সময়ই পরিশোধ করে দিয়েছি। তার কাছ থেকে আমি কখনো ৫০ হাজার টাকা ধার নিইনি। বরং সে বিদেশে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছে। বিদেশ থেকে লস খেয়ে এসে সে বলেছে, পরে সুযোগ করে টাকা দেবে।” এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় বরুড়া থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। আহত দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসা শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ হবে। Post navigation খোশবাস ইউনিয়নে গভীর রাতে ডাকাতি, গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে স্বর্ণ-টাকা লুট বরুড়ায় চিকিৎসকের বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট, ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার