স্টাফ রির্পোটার: বরুড়ার বাগমারা গ্রাম। ওই গ্রামের মানুষজন তাকিয়ে থাকেন সংবাদপত্র, টিভি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাঁরা একটি মৃত্যুর সংবাদ পেলে একটি কবর খোঁড়েন। কবর খোঁড়া শেষ না হতেই আসে আরেকটি মৃত্যুর খবর। একে একে পাঁচটি মৃত্যুর খবরে খোঁড়া হয় পাঁচটি কবর। সর্বশেষ আজ বুধবার রাতে দাফন করা হয় পরিবারের প্রধান কর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে। তাঁর ছোট ভাই শিপনের শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। যেকোনো সময় তাঁরও মৃত্যুর খবর আসতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের চারজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। আজ বুধবার সকাল ৯টায় ছোটতুলাগাঁও উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তিনজনের জানাজা সম্পন্ন হয়। এর আগে আরও একজনের দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় আড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাদল গতকাল বুধবার ইউনিয়নব্যাপী একদিনের শোক ঘোষণা করেন। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ শোকাতুর গ্রামবাসী। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে নয় জনকে সোমবার সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দগ্ধ শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যান। এর আগে ১০০ শতাংশ দগ্ধ নুরজাহান আক্তার রানীকে সন্ধ্যার পর জরুরি বিভাগে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যু হয়। তার শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল, তার ইনহেলিশন ইনজুরি ছিল।

মঙ্গলবার রাতে মারা যান আশুরা আক্তার পাখি, আর গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু ঘটে।

বাকি ৪ জনের মধ্যে গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশার ৪৫ শতাংশ, ভাইয়ের ছেলে আনাসের ৩০ শতাংশ ও ছোট ভাই শিপনের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই আশংকাজনক।

সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন পরিবারের এ পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সবার লাশ তাঁদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই দাফন করা হয়েছে।

সাখাওয়াত হালিশহরে মোটরপার্টসের ব্যবসা করেন। তার ভাই সামির আহমেদ সুমন পোল্যান্ড প্রবাসী। চলতি মাসের ৪ তারিখ দেশে এসেছেন। ১৮ তারিখে সুমন পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় যান চিকিৎসার জন্য। আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেই থাকেন। সোমবার ভোরে তাঁরা সাহরি খান। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফারণে নিহত পাঁচজনকে বরুড়ায় দাফন

26 February 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
ajker barura
www.ajkerbarura.com