একজন সাংবাদিক ৫০ হাজার টাকার শপিং করে টাকা দিচ্ছে না—আপনি কি কল্পনা করতে পারেন, একটি মানুষের মস্তিষ্ক কতটা বিকারগ্রস্ত হলে সে এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে? আমি সবসময় বলি, সংবাদপত্রের কার্ড গলায় ঝুলালেই বা কাছে রাখলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না। এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর নৈতিক দায়িত্ব।

আপনারাও এই ধরনের মানুষদের সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করবেন না। ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক টিভি ইত্যাদির নামে অনেকেই চ্যানেল খুলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে—যাদেরকে অনেকেই ‘বটবাহিনী’ বলে অভিহিত করেন। সারাদেশের মতো বরুড়াতেও এ ধরনের ভুয়া সাংবাদিক আগে ছিল, এখনও আছে। খেয়াল করলে দেখবেন, তাদের লেখায় শব্দচয়ন, ভাষাগত ব্যবহার এবং ভিডিও উপস্থাপনা অত্যন্ত এলোমেলো।

ধরুন, কোনো শিশু বা নারী যৌন নির্যাতন, ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিকটিমের ছদ্মনাম ব্যবহার এবং পরিচয় গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভিউ-নির্ভর কিছু মানুষ সবকিছু প্রকাশ করে দিয়ে অগোছালো ভিডিও বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এতে করে ভিকটিমের সমাজে বেঁচে থাকাটা আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
সাংবাদিকতার নামে অনৈতিক আবদার, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইল—এসবের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আপনি যদি সৎ থাকেন, তাহলে কোনো অপ্রাসঙ্গিক লেখায় আপনার সম্মান নষ্ট হবে না।

গল্পের নীতিবাক্য হলো—সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। তারা সমাজের অনাচার, অনিয়ম, অভাব, অভিযোগ, উন্নয়ন ও সম্ভাবনা তুলে ধরে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। মানুষ সেই সাংবাদিকতাই দেখতে চায়।
“মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আমারও ভুল হতে পারে। তবে একই কাজ বারবার করা হলে তাকে আর ভুল বলা যায় না।”

এমডি. আজিজুর রহমান, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *