এইচ.এম সেলিম, বরুড়া: বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়। কিন্তু চলাচলের পথে বেড়া দেওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে একটি পরিবারের। বিকল্প পথ হিসেবে সরকারি খালের ওপর নিজেদের অর্থে বাশঁ, কাঠ দিয়ে তৈরি করা ছোট পুলও ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে খালের পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বড় কৈয়নী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাচমিয়া সুলতানা তাকওয়াকে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাচমিয়ার পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের পথে বেড়া দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি। তাচমিয়ার পরিবার জানায়, চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের খরচে সরকারি খালের ওপর সিমেন্টের খুঁটি ও বাঁশ-কাঠ দিয়ে একটি ছোট পুল তৈরি করা হয়েছিল। ওই পুল দিয়েই তারা এতদিন চলাচল করতেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে সেটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ফলে এখন বিদ্যালয়ে যেতে তাচমিয়াকে খালের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। কখনো হাঁটুসমান পানি, আবার কখনো কাদামাটি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাকে। তাচমিয়া জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় তার পোশাক ও বই-খাতা পানিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। একজন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথ যেখানে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হওয়ার কথা, সেখানে তাকে ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আননোয়ার হোসেন বলেন, ইলিয়াছ মিয়া তার চাচাতো ভাই। ২০১২ সালে ইলিয়াছ মিয়া একটি জমি বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকা বুঝে নেওয়ার পরও তিনি জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেননি। এ নিয়ে গ্রামে কয়েক দফা সালিশ হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করায় গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই ওই পথে বেড়া দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাচমিয়ার পরিবারের দাবি, ইলিয়াছ মিয়া ওই জমি বিক্রি করেননি; তার ভগ্নিপতি শহীদ উল্লাহ জমিটি বিক্রি করেছেন। ফলে জমি বিক্রির বিষয়টি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দুই পক্ষের বক্তব্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হলেও, সেই বিরোধের কারণে একটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং একজন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাচমিয়ার পরিবারের দাবি, তারা কোনো বিরোধে জড়াতে চান না। বাড়ি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগই তাদের প্রধান দাবি। সরকারি খালের ওপর নিজেদের অর্থে তৈরি করা পুলটিও এখন না থাকায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তাচমিয়া ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীর নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। Share this news as a Photo Card Download Photo Card Generating high-quality image, please wait... Post navigation মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বরুড়ার প্রবাসীর মৃত্যু সাপে কাটা শিশুকে ওঝার কাছে নিয়ে ৬ ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ, পরে হাসপাতালে মৃত্যু